Jakaria Manik

Journalist | Writer | Poet

Jakaria Manik

"Humanity can transform this world into heaven — if it chooses to."

Translate posts to your language:

রোহিঙ্গা যুবতীদের অপহরণ-ধর্ষণ নয়, বিয়ে করুন ⇕ না হয় দেশে গিয়ে বলবে ‘আশ্রয় দিয়ে ধর্ষণও করেছিলেন!





⇒ প্রাণ ভয়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট চলছেই। সীমান্তের প্রভাবশালী ও দালাল শ্রেণির লোকজন অবাধে এসব করে যাচ্ছে। উখিয়া সীমান্তের আমতলী তুলাতলী পয়েন্টে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে রয়েছে মূল্যবান স্বর্ণলঙ্কারসহ অন্যান্য সামগ্রী। এছাড়া রয়েছে গবাদি পশুও। অনুপ্রবেশ পয়েন্টে এক শ্রেণির দালাল অসহায় রোহিঙ্গাদের স্বর্ণ, মুল্যবান জিনিসপত্র ও গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সুন্দরী যুবতীদের অপহরণ করছে। এমন খবর প্রকাশ পেয়েছে সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বর্তমান সময়ে যেন সংবাদ মাধ্যমের চেয়ে গুরুত্ব বেড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের! এক সময়ে কোন একটি সংবাদ মাধ্যমে যে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে সমাজে-রাষ্ট্রে তোলপাড়ের সৃষ্টি হতো, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতো। এখন আর তেমনটি হয় না। তাই সংবাদকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই যেন বেশী ভরসা পায়। অন্তত সাধারণের মনে যাতে করে ঘৃণার উদ্রেক হয়, অপরাধীরা যাতে চিহ্নিত হয়।
প্রসঙ্গ, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবতীদের অপহরণ-ধর্ষণ নয়; বিয়ে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম যুবকরা পরিকল্পিত খুনের শিকার হওয়ায় সেখানে মুসলিম নারীর সংখ্যা এখন বেশী। মায়ানমারে তাঁরা দীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দিকাল ধরে রাষ্ট্র কর্তৃক এতোটাই কোন্ঠাসা ছিল যে, রাষ্ট্রভাষা শিক্ষা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত ছিল। সন্তান জন্মদান, বিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভিটে-মাটির অধিকারে তাঁদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। স্বাভাবিক এবং মুক্ত জীবনের স্বাদ পায়নি তাঁরা। ভয়ঙ্কর মৃত্যু-মৃত্যু খেলার মাঝেই জন্ম, বেড়ে ওঠা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবই যেন অস্বাভাবিক। পরিকল্পিতভাবে এভাবেই রাষ্ট্র একটি নিজ জাতীকে পৃথিবীবাসী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাঁদের কাছে জন্মই যেন আজন্ম পাপ। মৃত্যুতেই যেন বেঁচে যাওয়া, স্বস্তি।
আন্তর্জাতিক আইনে এমন ঘটনাকে বলা হয় এথনিক ক্লিনজিং, জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া। বর্তমানে এটিকে জেনোসাইড বলা হয়। হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এমনটি করেছিলেন। শুধুমাত্র ইহুদী ধর্মাবলম্বী হওয়ায় হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিল প্রায় ৬০ লাখ ইহুদী। বর্তমান ঠিক সেটাই হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওপর। জাতীগতভাবে রোহিঙ্গা এবং মুসলমান হওয়ায় তাদের হত্যা করা হচ্ছে।
আজ বাঙলাভাষী এ জাতী স্বজন-পরিজন হারিয়ে একটুকু আশ্রয় প্রত্যাশায় জীবনবাজী রেখে বঙ্গ ভূমিতে এসেছে। তাঁদের আরো বড় একটি ভরসা আছে, তা’ হলো তাঁরা মুসলমান। অনেকেই বলে থাকবেন, একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’। অনেকের বলে থাকা কথায় তাঁদের আস্তা-বিশ্বাস কোনটাই হয়তো এখন নেই। এর কারনটি এমন হতে পারে যে, কালের বিবর্তনে হয় তাঁরা অমানুষ হয়ে গেছেন না হয় তাঁদের ছাড়া দুনিয়ার তাবৎ মানুষ এখন আর মানুষের পর্যায়ে নেই। মানবতার বাণী এখন তাঁদের কাছে শুধুই হাস্যকর তাই।
তথ্য মতে, মায়ানমারে প্রায় শতভাগ যুবতী অসংখ্য বার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ যেখানে নিশ্চিত সেখানে তাঁরা এটিকে হয়তো উপভোগই করেছেন। এর পরও তাঁদের অনেকেই জীবনটাকে রক্ষা করতে পারেননি। সম্ভ্রম-জীবন সবই খুঁইয়েছেন। রোহিঙ্গা যুবতীদের অনেকেই এখন জীবনের জন্য জীবনকে পূঁজি করেছেন। বেঁচে থাকার জন্য আপন শরীরটাই এখন একমাত্র সম্বল। এই সম্বলটুকু নিয়েই তাঁরা মায়ের দেশ ছেড়ে মাসির দেশে এসেছেন, স্বভাষী-স্বধর্মীর কাছে। এখানেও আবার সেই ধর্ষনের হুঙ্কার! ওরা-ত এক এক জন যেন একেকটি গীটারের ছেঁড়া তার! আগের মতো আর বাজে না, সুর তুলতে পারে না। ওদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে সেই কবেই। ওদের মনে আগের মতো সেই জোর আর নেই, দীর্ঘ ক্লান্তি ওদের রক্ত কনিকা-কোষের সকল উপকরণে তারতম্যের সৃষ্টি করেছে। ওদের ক্ষত-বিক্ষত শরীর-মনে ধর্ষণের কষাঘাত আর সইবে কী করে। 
আমরা মুসলমান, পবিত্র ধর্ম ইসলামে বিশ্বাস করি। সৃষ্টিকর্তা মানবজাতীর জন্য পরিপূর্ণ জীবনবিধান ‘আল কুরআন’ দিয়েছেন। ইসলাম ধর্ম মতে, ‘দৈহিক সামর্থ্য, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং নিরাপত্তাদান’ অন্তত এই তিনটি যোগ্যতা যাদের রয়েছে তাঁরা ইচ্ছে করলে বৈধ উপায়ে একে একে ৪টি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারেন। এমন পরিস্থিতির বিচারেই অতিরিক্ত বিয়ের অনুমোদন দিয়েছিলেন রাসূল (স:)। এমন বিয়ে করার উপযুক্ত পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট এখন বাংলাদেশের সকল মুসলমান যুবক-পুরুষের সামনে। ধর্মের বিধিনিষেধ শতভাগই প্রতিপালনের বিষয়, সুবিধাজনক হলে কিছু মানা আর অসুবিধায় পড়লে পাশকাটিয়ে যাওয়া তা’ কোন প্রকৃত ধার্মিকের কাজ হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বিবাহিত পুরুষগণের বড় বাধা হতে পারে তাঁদের স্ত্রীগণ। এই স্ত্রী জাতীগণকে একটু ধর্ম-কর্ম বুজিয়ে বললে এবং ছোট অসুবিধার পাশাপাশি কী কী বড় বড় সুবিধা আছে যেমন পারিবারিক কাজকর্মে সহায়তা ইত্যাদিও, তাহলে হয়তো অনুমতি পাওয়া যেতে পারে। রোহিঙ্গা নারী-যুবতীদের এমন অনেকেই আছেন তাঁদের আপন বলতে এখন আর পৃথিবীতে কেউ নেই। অন্তত তাঁদের আশ্রয়ে কেউ যদি স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে একটু আগলে রাখেন তাহলেও আজকের বিপন্নপ্রায় মানবতা একটু হলেও বাঁচে। রোহিঙ্গা যুবতী-নারীগণকে বিয়ে করলে জেনেটিক সাইন্স মতে, নয়া এক উন্নত সংকর জাতীর বিকাশ লাভ করবে। নয়া এ প্রজন্মের নাম করণ হতে পারে ‘বাঙরো’। বাঙ্গালীর ‘বাঙ’ আর রোহিঙ্গার ‘রো’। অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং পর্দানশীল এই নারীদের গর্ভজাত সন্তান পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে। আর এখন যদি তাঁরা ধর্ষণের বস্তুই হয়ে থাকে তাহলে এক সময় (যদি কখনো মায়ানমার থেকে স্বাধীনতা লাভ করে) তাঁরা স্বদেশে গিয়ে স্মতিচারণ করতে গিয়ে নিশ্চয় বলবেন ‘আশ্রয় দিয়ে ধর্ষণও করেছিলেন’।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা আলাপ প্রসঙ্গে এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকতের জেলায় পতিতাবৃত্তিতে জড়িতদের সিংহভাগই রোহিঙ্গা নারী। পাপবোধ এখন তাদের আর বোধোদয় হয় না, ক্ষুধার জ্বালা তাঁরা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে। স্রষ্টার বরাদ্ধকৃত রিজিকে তাদের আর পা’ চলে না, জীবন চলে না। আপন রাষ্ট্র তাঁদের এতো দূর ছিঁটকে ফেলে দিয়েছে। তাঁরা বাঁচতে চায় অপর কারো জন্য নয়; নিজের জন্য, নিজের জীবনের বিনিময়ে। এই দেশে পতিতাবৃত্তিই যদি তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হয় তাহলে যৌনবাহিত নানান ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবিচার-পাপ-পঙ্কিলে ডুববে এপাড় বাঙলার বাঙ্গালী জাতী। ফলশ্রুতিতে মুখোমুখি হতে হবে প্রকৃতির প্রতিশোধের। --- চলমান।

Comments