মানুষের জ্ঞান কি অন্য সকল প্রাণীর চেয়ে এতো কম?
⇒ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেড়েই চলছে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এক সময় স্রষ্টাভক্তি-বিশ্বাস এবং ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে নিজ উদ্যোগ-ব্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতেন ধর্মানুরাগী ব্যক্তিগন। এখন সেই লক্ষ্য-নীতি-আদর্শ যেনো অনেকটাই বিবর্ণ হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আসছে। অনেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করছেন নিজের আয়-রোজগারের প্রত্যাশায়, অনেকে গ্রাম্য মাতব্বর হওয়ার প্রত্যাশায়, আবার অনেকে প্রতিষ্ঠা করছেন নিজের যশ-খ্যাতি বাড়িয়ে সাধারণের সমর্থন প্রত্যাশায়, অনেকে দলাদলি করতে। অনেকে আবার নিজের প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও দাবী করছেন। ভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে। যদিও সকল ধর্মেই বিধি-নিষেধ রয়েছে অবৈধ অর্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বেলায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানা নিষিদ্ধ রয়েছে সকল ধর্মেই। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুনিয়া ছেঁয়ে গেলেও এ প্রতিষ্ঠানগুলো আঁচড় কাটতে পারেনি মানুষের হৃদয়ে। বেশীর ভাগ মানুষ এখন মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-বিহারে প্রার্থনা করতে যায় নিজেকে আড়াল করতে। যদিও লোক দেখানো এই প্রার্থনা বিচারদিবসে নিজেদের কোন কাজেই আসবে না। মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসার বিদ্যা যারা রপ্ত করতে পারেনি তাদের কাছে অন্য সকল প্রাণীর নিরাপত্তা কীভাবে আশা করা যায়। এতো বিদ্যা-শিক্ষা, ধর্ম-কর্মের পরও মানুষ মানুষের স্বাভাবিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট ভুলে যায়। মানুষের জ্ঞান কি অন্য সকল প্রাণীর চেয়ে এতো কম? পৃথিবীর বুক থেকে মানব প্রজাতী বিলীন হলে এর জন্য মানুষকেই দায়ী করবে অন্য প্রাণীসকল। মানুষে মানুষে হানাহানি দেখে ভয়ংকর জীব-জন্তুও হয়তো এখন ভীত-সন্ত্রস্ত! স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, আমরা কি এখানো মানুষ আছি?

Comments