Jakaria Manik

Journalist | Writer | Poet

Jakaria Manik

"Humanity can transform this world into heaven — if it chooses to."

Translate posts to your language:

রোহিঙ্গা গর্ভবতী যুবতী-নারীর জন্য জরুরী প্রয়োজন পর্যাপ্ত ‘ইমার্জেন্সি পিল’

বেঁচে যাবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং বেঁচে যাবে বাংলাদেশ



⇉ মানবপ্রজাতি প্রকৃতিগত ভাবেই অন্য সকল প্রাণীর ন্যায় কিছু বৈশিষ্টের অধিকারি। এর একটি, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নারীর রজ:শ্রাব। এই সময়টিতে নারী শুক্র গ্রহণে সক্ষম। এ সময় যে কোন সুস্থ পুরুষ কর্তৃক নারী গর্ভধারণে সক্ষম। সে যে জাতের, যে কোন বয়সের বা ছোট-বড়-লম্বা যাই হোক। তবে, মানুষ ছাড়া অন্য প্রণীরা নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট লঙ্ঘন করে না। ভিন্নতা কেবল মানুষের বেলায়। যেমন অন্য সকল প্রাণীরা নির্দিষ্ট বয়স এবং সময় না হলে যৌনতায় জড়ায় না। কেবল শ্রেষ্ঠ প্রাণী-বুদ্ধিমান প্রাণী (!) মানুষের বেলায় দিন-রাত, বয়স, সময়, সম্পর্ক সকল কিছুই যেন রহিত।


প্রকৃত সাধুরা (প্রায় সকল ধর্মের) নারীকে মানুষ বলতে নারাজ। তাদের ভাষায়, নারী হলো প্রকৃতি। তাই নারীকে ভালোবাসতে হয়। নারী ভালোবাসার বস্তু। নারীকে বাদ দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসার চিন্তা বিফল। মায়ানমারের প্রায় সকল (মুসলিম ও হিন্দু) নারীদের (নারীশিশু-যুবতী-নারী) গণধর্ষণ করলো সে দেশের বৌদ্ধ পুরুষরা। এর থেকে বাদ গেলো না একটি দেশের শান্তি সমুন্নত রাখার শপথ নেয়া সেনা সদস্যরাও। ধর্ষণ যেখানে নিশ্চিত সেখানে উপভোগ করাই নাকি শ্রেয়। কিন্তু, যদি গণধর্ষন হয় তাহলেও কী করে তা’ উপভোগ্য? আর কোন নারী যে কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ভোগ বা উপভোগের বস্তু হয়ে থাকলে তাঁর প্রতি একটু দায়িত্বও বেড়ে যায়। যেমন, একটু ভালো-মন্দের খোঁজ-খবর নেয়া, সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকা; আর বেশী কিছু করতে না পারলে অন্তত মঙ্গলটুকু হলেও কামনা করা। এ নীতিও লঙ্ঘন করলো মায়ানমার জাতি। তাঁরা ভোগ-উপভোগ শেষে গলায়ও ছুরি মেরেছে, কলিজা কেটে নিয়েছে; স্তন-যৌনাঙ্গ কেটে নিয়ে গেছে। বৌদ্ধ ধর্মে একটি কীট-পতঙ্গ নিধনেও নিষেধ রয়েছে। এর কারন হিসেবে বলা হয়েছে, আজকে যে কীট-পতঙ্গটি আমরা দেখি সেটি কোন কালে মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। আবার পা্রয়শ্চিত্য শেষে এটি হয়তো কোন কালে মানবজীবন লাভ করবে। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, বৌদ্ধের ঘরে জন্ম নিলেই একজন মানুষ বৌদ্ধ হয়ে যাবে না।ভগবান বুদ্ধের নীতি-আদর্শ যিনি প্রতিপালন করবেন তিনিই বৌদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্ম সর্বজনীন। মায়ানমারের প্রতিহিংসা পরায়ন বৌদ্ধদের প্রকৃত বৌদ্ধ বলতে নারাজ বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ। তাঁদের মতে, মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা করা বুদ্ধের নীতি এবং আদর্শের একেবারেই পরিপন্থী। বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং উপাসক-উপাসিকাগণের আচার-আচরণ, নীতি-আদর্শ-নমনীয়তা- নৈতিকতার সাথে মায়ানমারের বৌদ্ধদের কোনই মিল নেই। মায়ানমারকে থামাতে বাংলাদেশী বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে সম্প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহবান জানিয়ে আসছে। একই সাথে তারা সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রাখতে এবং ভগবান বুদ্ধের প্রকৃত নীতি-আদর্শ প্রচারে নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি একটু বেশীই মনোযোগি হয়েছে।
অতিরিক্ত যৌনসঙ্গম শেষে পুরুষপ্রজাতি যেমন ক্ষণিকের জন্য দুর্বল-নিস্তেজ হয়ে যায়, হয়তো সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ধর্ষিত নারীদের জীবিত একটি অংশ পালিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত আসতে সক্ষম হয়েছে। এখানে এসেও পেছনে ফেলে আসা ওদের সেই বিপত্তি কাটেনি। তারা আশ্রয় নিয়েছে গুটি কয়েক স্থানে, এক জাতি এই বিশ্বাসে। এখানেও সেই ভোগের বস্তুতেই পরিণত হয়ে আসছেন রোহিঙ্গা যুবতী-নারীরা। নারী যদি সত্যি সত্যি প্রকৃতিই হয়ে থাকে তাহলে এর দায় নেয়া কঠিন। ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ বলে একটি কথা আছে। প্রকৃতি কারো প্রতি করুণা প্রদর্শন করে না। তবে, বাংলাদেশ যেহেতু একটু বেশীই মানবতা প্রদর্শন করেছে, তাই একটু বেশীই দায় এসে পড়বে বাংলাদেশের উপর, এটিই সত্য। এ দায় থেকে বাঁচতে বাংলাদেশকেই একটু বেশী দায়িত্ব নিতে হবে, এই প্রকৃতিকে রক্ষায়-সন্তুষ্টিতে।
বাংলাদেশ সরকারের অনুমান নির্ভর (বর্তমানে পরিসংখ্যান চলছে) তথ্য, রাখাইন থেকে আগতের সংখ্যা অন্তত ৯ লাখ হবে। এর সিংহ ভাগই নারী-শিশু এবং বৃদ্ধ। অনুপাতে নারীর সংখ্যাই বেশী। এখনও এই নিপিড়ীতের ¯্রােত বন্ধ হয়নি, যেন ঢল নেমেছে। এ সংখ্যা ১২ লাখে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।
বাংলাদেশে তারা এমনিতেই আসেনি, অধিকার নিয়েই এসেছে; ধর্ম-বর্ণ-ভাষার অধিকার। আর বাংলাদেশ তাদের মানবতার খাতিরেই শুধু স্থান দেয়নি; তাদের অধিকারকেও সম্মান দেখিয়েছে। বর্তমান সভ্য (!) দুনিয়ায় মায়ানমারের অপর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং চীন মানবতার প্রশ্নে ইতিহাসে নয়া অধ্যায় রচিত করেছে। বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র ভারত এবং চীন আধুনিক বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়া মায়ানমারের সহিংসতাকে এক প্রকার প্রকাশ্যেই প্রশ্রয় দিয়েছে। আন্ত:রাজনীতি-রাজনীতি খেলায় একা হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। যে দেশটির তিন দিক ঘিরে রয়েছে ভারত, এক দিক সাগর আর ক্ষুদ্র একটি সীমান্ত রয়েছে মায়ানমারের সাথে। সমূহ ক্ষতি জেনেও মনবতার প্রশ্নে নিশ্চুপ থাকেনি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সরকারসহ দেশে-বিদেশের নানা সংস্থা-প্রতিষ্ঠান এবং দেশ মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে (ধন্যবাদ সকলকে, যারা তাদের দুর্দিনে সার্বিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন)। সমুদ্র উপকুলীয় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলগুলোর মানুষ এমনিতেই সন্তান জন্মদানে উর্বর। শুধু সময় মিলে গেলেই গর্ভ নিশ্চিত। তাই বিয়ে-সন্তান জন্মদানে রোহিঙ্গাদের প্রতি মায়ানমার সরকারের বিধিনিষেধ আরোপিত ছিল। কিন্তু সময়-অসময়ে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ফসল হিসেবে রোহিঙ্গা নারীরা’যে সাথে করে নিয়ে এসেছেন যৌনবাহিত নানা অসুখ-বিসুখসহ পেটভরা বিধর্মী সন্তান। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য মতে, বর্তমানে দৈনিক ১২টি করে সন্তান জন্ম দিয়ে আসছেন রোহিঙ্গা নারীরা। আর ছয়-কিংবা সাত মাস গেলেই হয়তো এ সংখ্যা শত-হাজারে ছাড়িয়ে যাবে। দুর্বল-অসুস্থ নারীর সন্তান অসুস্থই হয়, পুষ্টিহীন নারীর সন্তান অপুষ্টি নিয়েই জন্মায়, বিজ্ঞান বলে। অধিকাংশ মা’দেরই (বর্তমানে যারা গর্ভবতী) যেখানে ঠাঁই নেই, দিনে সড়কে আর রাতে জঙ্গলে অবস্থান। সেখানে এই নবাগতদের দায় নেবে কে? এছাড়া হিং¯্রদের ঔরষে’ত হিং¯্র সন্তানই জন্ম নেবে! যতটুকু জানা গেছে, বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান আর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েই সংশয়ে ভূগছে বিশ্ববাসী। কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি জন্মনিরোধক পিল’, গর্ভপাতের উপকরণ এবং ঝূঁকিমুক্ত যৌনমিলনের সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে কি-না তা’ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিশ্চিত হওয়া যায়নি দেশী-বিদেশী কোন সংস্থা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে কি-না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে গর্ভপাত এবং গর্ভনিরোধে নিষেধ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বিচারে রোহিঙ্গা নারীদের জন্য এই দৃষ্টিকোন কি সমাধান দেবে তা’ ব্যখ্যার দাবী রাখে।
জানা গেছে, উপযুক্ত নারীদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই জীবন বাঁচানোর তাগিদে বেশ্যার খাতায় নাম লেখানো শুরু করেছে। প্রয়োজন আইন না মানলেও এটিও ভাবার বিষয়। তাই পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবতী-নারীদের জন্য জরুরী ভাবে পর্যাপ্ত ‘জন্মনিরোধক পিল’, ‘ইমার্জেন্সি জন্মনিরোধক পিল’, গর্ভপাতের উপকরণ (যেমন এমএম কিট, মিসোপ্রোস্টল জাতীয় ঔষধ সমূহ) এবং ঝূঁকিমুক্ত যৌনমিলনের সামগ্রী বিতরণ করলে বেঁচে যাবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং বেঁচে যাবে বাংলাদেশ।

Comments