টিনেজাররা যৌনক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে! সতর্ক করুন অভিভাবকদের
ওদের পরবর্তী প্রজন্ম হবে বিকলাঙ্গ!
গত এক দশকে আশাতীত সাফল্য লাভ করেছে তথ্যপ্রযুক্তির, দাবী বিজ্ঞানীদের। জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে কোন উন্নতি মানবজাতীর কল্যাণের জন্য হওয়ার কথা। অবশ্য এ বিষয়ে এক সহকর্মী বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বললেন, ‘আগুন’ আবিস্কার মানুষের জীবনটাকেই বদলে দিয়েছে। অথচ, এই ‘আগুন’ দিয়ে দুনিয়াটাকে জ¦ালিয়ে দেয়াও সম্ভব। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, এই ‘আগুন’ কে কোন্ কাজে ব্যবহার করছে সেটার উপর নির্ভর করছে কল্যাণ-অকল্যাণ। হ্যা, এই ‘আগুন’ এমন ‘আগুন’ই হওয়া উচিত যা’ অকল্যাণে ব্যবহার করা না যায়। বিজ্ঞানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
মানুষের খুলির নিচে এক বর্গফুটের এক দশমাংশ স্থানে মস্তিস্কের গঠনকাঠামোতে রয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি সার্কিট, যাকে বলা হয় নিউরন। বোকা, সাধারণ, বুদ্ধিমানের মধ্যে নিউরনের কোন পার্থক্য নেই, পার্থক্য শুধু ব্যবহারে। বিজ্ঞানী নিউটনের মতো মানুষেরা নাকি সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিউরন ব্যবহার করতে পেরেছেন। অতি সাধারণ মানুষ কাজে লাগায় ৩/৪ শতাংশ, বাকি সব পঁচে যায় মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে। মানুষের মস্তিস্কের কোষের গঠন বেশ বড় আকারের এবং শক্তির বেশ অপচয় করে, কাজকর্মেও খুব ঢিলেঢালা। বিজ্ঞানীরা হিসেবে করে দেখেছেন, পারমানবিক আকারের ইলেকট্রনিক সেল মানব মস্তিস্কের প্রোটোপ্লাজমিক সেলের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি গুন বেশী কার্যকর বা ক্ষমতা সম্পন্ন এবং কৃত্রিম কোষ কার্যকারিতার দিক দিয়ে মানব কোষের চেয়ে দশ লাখ গুন বেশী সক্ষম এবং ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মারকুয়ারড করপোরেশন এর অ্যাস্ট্রো ডিভিশন ঘোষণা করেছে, তারা ৬ স্কয়ার ফুটের সমান এমন একটি মেমোরি যন্ত্র তৈরী করছে যেটাতে ১০ হাজার বছরে পৃথিবীতে যা কিছু ঘটেছে, হয়েছে তার সবকিছুই এখানে ধারণ করা সম্ভব। প্রস্তর খোদাই, প্যাপিরাসে লেখা গ্রন্থ, পারচ্মান্ট পেপারে লেখা এবং আধুনিক কালের সকল ভাষার গ্রন্থাবলী যা কিছু লেখা রয়েছে সব এই যন্ত্রে ঢুকিয়ে দেয়া যাবে। এটির ধারণক্ষমতা মানব মস্তিস্কের তুলানায় অসংখ্য কোটি গুন বেশী। কোয়ান্টাম ফিজিক্সের বদৌলতে বর্তমানে সকল যন্ত্রই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে আসছে। বিজ্ঞানের কারিগররা শ্লোগান দিয়েই বলছেন, যা তৈরী করছি তা যদি আপনি চোখেই দেখতে পেলেন তাহলে ওটা অনেক বড়ই হয়ে গেছে, মাইক্রোস্কোপিক হল কোথায়?
এখন এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদের কাজ, মৌলিক গান ও কবিতা রচনা, দাবার গুটিচালনা নিখুঁতভাবেই করছে কম্পিউটার। কিন্তু তা’ করার কথা নয়, মৌলিক মেধা না থাকলে কোনভাবেই এগুলো করা সম্ভব নয়। মেশিনের নিজস্ব কোনও বুদ্ধি-মেধা নেই। যেভাবে অপারেট করা হবে, কীবোর্ড পরিচালনা করা হবে মেশিন সেভাবেই গানিতিক হিসাব পরিচালনা করবে। এখন বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, মেশিনের মেধা এলো কেমন করে? তাহলে কি কম্পিউটার ব্রেইন এবং মেশিনের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করতে সক্ষম হল? এই একটি প্রশ্নে বিজ্ঞানের অতীত সূত্রাবলী উল্টে যেতে পারে। এর পর হয়তো মেধাসম্পন্ন মেশিন আরেকটি মেধাসম্পন্ন মেশিনের জন্ম দেবে। তখন হয়তো মেশিন শুধু মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করবে না, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সারাজগতের নিয়ন্ত্রণ ভারও নিয়ে নেবে। মানুষের মগজ খাটানো কর্তৃত্ব এক সময় নি:শেষ হয়ে যাবে। মানুষ কি খাবে? কখন খাবে? কি করবে, আর কি করবে না এবং পরিবার-রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্দেশনা দেবে যন্ত্র। প্রশ্ন, যন্ত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করলে মানুষকে কী পরিনতি ভোগ করতে হবে? অনিয়ন্ত্রিত মানুষকে বধ করতে কী দানবের রূপ নেবে যন্ত্র? প্রশ্ন ওঠেতেই পারে, বিজ্ঞানের এমন সাফল্যে মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ নিয়ে। বিজ্ঞানের এ সাফল্য স্রষ্টা প্রদত্ত মানুষের স্বাভাবিক চরিত্র পাল্টে দেবে, এতে সন্দেহ নেই। এমনটি নিয়ে ভাবছেন বিজ্ঞানীরাও। এই প্রযুক্তি মোকাবেলায়-নিয়ন্ত্রণে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম কতটুকু প্রস্তুত?
উন্নত জীবনমান বিবেচনায় স্বীকৃত উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়ে আসছে। প্রযুক্তির অকল্যাণ নিয়ে তারা তটস্ত। প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম সুরক্ষায় তারা ঘাম ঝড়াচ্ছেন। প্রযুক্তির বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষায় তারা বেশ সচেতন। কিন্তু আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সেই একই প্রযুক্তি কতোটা মানানসই। যেইসব দেশে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাই তাদের নিজ দপ্তরের বিষয়ে বলতে গেলে অনভিজ্ঞ (বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দেয় তখন রাষ্ট্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভিপিএন সফ্টওয়ারের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করেছে অনেকে, পরে টের পেলেও তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি সরকার)। যেইসব দেশে অশিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত দিনমজুর এবং স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরের হাতে চলে এসেছে ইন্টারনেট-এনড্রয়েড মোবাইল। কোন্ উদ্দেশ্যে রাতে ইন্টারনেটের ‘এমবি’ মূল্য শিথিল করে দিয়েছে ফোন কোম্পানীগুলো? প্রত্যন্ত অঞ্চলের কম্পিউটার দোকানগুলোতে গান লোড করতে গেলে তাদের পছন্দমতো নারী গ্রাহকদের অজান্তেই মোবাইলে পর্ণমুভি ভরে দেয় তারা। অনেক কিশোর-কিশোরী-নারীর চাহিদাই থাকে সহজলভ্য পর্ণমুভি। এ নিয়ে ভাবনা থেকে বিচ্যুৎ হতে পারেন না দায়িত্বশীলরা।
বাংলাদেশসহ অর্থ-জ্ঞানে-ধ্যানে-বিজ্ঞানে পিছিয়েপড়া তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই এখন নয়া প্রযুক্তির সহজলভ্য মোবাইল ফোনের ছড়াছড়ি। বিশে^ এক সময় ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিতে একচেটিয়া দখল ছিল জাপানের। গত প্রায় দুই যুগে সেটির দখল নিতে সক্ষম হয়েছে চীন। বেশীর ভাগ প্লাস্টিক নির্ভর বর্তমান প্রযুক্তিযন্ত্র নির্মাণে ব্যস্ত এখন চীনের প্রতিটি পরিবার। মারনাস্ত্র বহণকারী ড্রোন থেকে শুরু করে নো-গ্যারান্টির ৬শ’ টাকার মোবাইল ফোন পর্যন্ত সস্তা দামে স্বল্প সময়ে মানহীন পন্য তৈরীতে সক্ষমতা দেখিয়েছে চীন।
মোবাইল ফোনের টাওয়ারে ছেয়ে গেছে দেশ। টাওয়ার এবং মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনচক্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে সকল মানুষ। রেডিয়েশন সহনীয় মাত্রায় নেই। শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ এবং শারিরিকভাবে অসুস্থরা এখন মাত্রাতিরিক্ত এই রেডিয়েশনে দূরারোগ্য নয়া নয়া অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে আসছে। এনড্রয়েড মোবাইল ফোনের হাই রেজুলেশন স্ক্রীণে দীর্ঘ সময় ধরে আকর্ষণীয় গেম খেলা এবং ফেসবুক চালনায় শিশু-কিশোরের দৃষ্টিক্ষয়ের অন্যতম কারণ। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিপর্যয় হয়ে ওঠেছে যেকোন ডিভাইসে অনলাইনে প্রবেশ করা মাত্রই আপনা-আপানি স্বাগত জানায় পর্ণসাইটগুলো। জন্মের পর যেসব দেশের শিশুরা ‘একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু’ দেখতে অভ্যস্ত, সেইসব দেশের কিশোর-কিশোরীরা দুই চোখ মেলে যখন দেখতে পায় নিখুতভাবে নির্মিত লাখ লাখ পর্ণমুভি তখন তার মনোবৃত্তি কোন্ পথ ধরে?
জীবন্ত প্রাণীর শরীর স্বয়ংমেরামতযোগ্য; শরীরের মাংসপেশী, শিরা, রক্ত, হাড়ের অবিরাম পরিবর্তন ঘটে, ক্ষয় হয় আবার তৈরী হয়। এর মধ্যে যদি কোনো একটি অঙ্গও এই ক্ষয় ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে তাহলে গোটা জীবনই ধ্বংশ হয়ে যায়। শুধু মানব প্রজাতীই নয়, সকল প্রাণীই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দৈহিকভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করে। একটি মানবশিশু পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে উঠতে সময় লাগে ২০/২৫ বছর। এই সময়ের মধ্যে শরীরের কোষ বৃদ্ধি পায়, হাড়ের গঠন মজবুত হয়, মস্তিস্কের পূর্ণতা এবং পরিপূর্ণ যৌনক্ষমতা লাভ করে। একই সময়ের মধ্যে যদি কোন প্রাণী (যদিও মানুষ ছাড়া অন্য সকল প্রাণী সক্ষমতার পূর্বে যৌনতায় জড়ায় না) যৌনতায় জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার শরীরের কোষ বৃদ্ধি, দৈহিক এবং হাড়ের গঠন, মস্তিস্কের পূর্ণতায় বাধাগ্রস্ত হবে ও জৈবিক চাহিদা এবং সুস্থ্য সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা সৃষ্টি হবে; এ কথা ধর্ম বলে, বিজ্ঞানও বলে।
বর্তমান প্রজন্মের সিংহভাগ শিশু-কিশোর পর্ণমুভিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। পর্ণমুভির প্রভাবে সহপাঠি-সঙ্গীদের সাথে যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে তারা। তরুণীদের অশালিন পোষাক তরুণদের যৌনতায় আরো আগ্রহী করে তুলছে। বর্তমানেও প্রায় সকল মায়েরা পর্দানশীল, কিন্তু তারা তাদের কন্যাদের যৌনউদ্দীপক পোষাক পরিয়ে আসছেন। অনেক অভিভাবক তাদের কন্যাদের শালীন পোষাকে উৎসাহি করতে পারছেন না। এর কারন, বর্তমানে প্রায় সিংহভাগ মেয়েই চায় এমন পোষাক পড়তে যে পোষাকে তাকে আকর্ষণীয় দেখাবে, তার প্রতি আকর্ষণ বাড়বে ছেলেদের। বর্তমান প্রজন্মের প্রায় অর্ধেকের দৈহিক উচ্চতা অনুযায়ি ওজন নেই। ওরা শরীরকে ধরে রাখতে গিয়ে কম আহারে কম ক্যালোরী গ্রহণে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে, কমে যাচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। নিজেকে আর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনকারীদের অনেকেই একে অপরের যৌন আহবানে সাড়া দিয়ে থাকেন। ওয়ানটাইম এই সম্পর্ককে তাদের ভাষায়, বলা হয় ‘রিলেশনশীপ’, আর ‘রিলেশনশীপ’ এর পরিপূর্ণতা পায় রুমডেটিংয়ের মাধ্যমে। কেউ কারো যৌনতায় সাড়া না দিলে তাকে বলা হয় আন-সোশ্যাল। ‘রিলেশনশীপ’ ভেঙ্গে গেলে তারা বলে ‘ব্রেকআপ’। অনেকে শখের বশে বা স্মৃতি ধরে রাখতে অথবা একে অপরের অজ্ঞাতে মুঠোফোনেই যৌনকর্মের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখছেন। এই ভিডিওচিত্র’র মাধ্যমে একে অপরকে ব্ল্যাকমেইলও করে আসছে, শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে কখনো কখনো এইসব ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিজস্ব রীতির কারনে প্রায় শতভাগই সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছেন তরুণীরা। বর্তমানে তরুণীদের আত্মহত্যার অন্যতম একটি কারণ এই অসম প্রেম এবং অতিআধুনিকতা। বর্তমানে বিনোদন মাধ্যম ‘ইউটিউব’ এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো রোমান্টিক (যৌনতানির্ভর) নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপন নির্মাণ এবং সম্প্রচারে নয়া প্রজন্মকে বলতে গেলে যৌনতায় উস্কে দিচ্ছে, একজন নারী শিল্পীকে উপস্থাপন করা হচ্ছে যৌনতার প্রতীক হিসেবে। বেশীর ভাগ মানুষের ধারণা, একজন সুপারস্টার মানে যেন একজন হাই রেটেড পতিতা (যখন কোন কেলেঙ্কারী প্রকাশ পায় তখনই জানতে পারে সকলে)। প্রকৃত পক্ষে একজন সুপারস্টারের হওয়ার কথা সমাজ বদলের একজন অগ্রসৈনিক।
বর্তমানে অবাধ যৌনতাকে অনেকে প্রেম বলে আখ্যায়িত করলেও বস্তুত এটি প্রেমের পর্যায়ে পড়ে না। প্রেমের সাথে যে যৌনতার কোনই সম্পর্ক নেই এটি তারা এখন উপলব্দি করতেই ব্যর্থ। এছাড়া, অনলাইনে চলছে ‘পেইড সাইবার সেক্স’। অভিজাত পরিবারের স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ুয়া এবং স্বামী পরিত্যক্তা অনেক নারী এটিকে একপ্রকার পেশা হিসেবেই নিয়েছে। রাত গভীর হতেই অনলাইনে শুরু হয় তাদের আনাগোনা। এই ‘পেইড সাইবার সেক্স’র মাধ্যমে সম্ভ্রান্ত পরিবারের কিশোর-যুবক-পুরুষরা অরুচিকর যৌনতায় ধাবিত হচ্ছে। পতিতাবৃত্তিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অনলাইন-ফেসবুক, এই যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের পছন্দ মতো নারী-পুরুষ সঙ্গী সহজেই খুঁজে নিচ্ছে। (সাম্প্রতিক ঝড়তোলা আপন জুয়েলার্সের মালিক পরিবারের কেলেঙ্কারী) পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙ্গে বর্তমান প্রজন্ম এভাবে আরো বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। অবশেষে মাদকেই খুঁজছে তারা শান্তির পথ। বহুগামীতার কারণে দাম্পত্যজীবনেও ওরা এক স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে আর সুখি হতে পারবে না। তখন প্রায় সকলেই জড়িয়ে পড়বে পরোকিয়ায়। এতে করে ওরা দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। তবে, উন্নত বিশ্বের এই ধরণের মানসিক অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তেমন কাউন্সিলিং না থাকায় এরা ভয়ংকর ক্ষতির সম্মুখিন হবে, স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের শতভাগই পাগল হয়ে যাবে।
বেশীর ভাগ অভিজাত পরিবারের সিংহভাগ সদস্যই এখন গভীর রাতে ডিজেপার্টিতে অংশ নিচ্ছে, যোগ দিচ্ছে সিসাবার এ। রাতব্যাপী মাদক সেবন আর যৌনতায় গড়াগড়ি করে ভোর রাতে হেলে-দুলে যার যার মতো করে বাসায় ফিরছে। স্বামী-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সকলেই যেন পরিপূর্ণ স্বাধীন, কারো উপর খবরদারি করার কোন অধিকার কারো নেই। তাদের মতে এটিই ‘মডার্ণ কালচার’। কচি মনের বিষন্নতায় এদের অনেকে প্রকাশ্যেই এখন ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই মডার্ণ কালচারের অনিয়ন্ত্রিত যৌনতায় টিনেজাররা প্রকৃতি প্রদত্ত নিজস্ব যৌনক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে! যৌন অক্ষমতায় দূর্বল শুক্রানু-ডিম্বানুর ফলে ওদের ঘরে জন্ম নেবে পুষ্টিহীন বিকলাঙ্গ শিশু। এভাবে চলতে থাকলে কমতে থাকবে তাদের জীবনীশক্তি-আয়ু, অকালেই বুড়িয়ে যাবে ওরা।
যৌনতা মানবজীবনের সুখ-দু:খের অন্যতম একটি কারন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত সকল অভিভাবক, বর্তমান প্রজন্ম এবং দায়িত্বশীলদের। যে ভাবনা থেকে পূর্বসূরিরা শিশুকালেই ধর্মীয় শিক্ষাদান করতেন এবং নারীশিক্ষার জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন। নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত বর্তমান নারী-পুরুষ একত্রিত শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকতার ছাপে ধ্বংশের মুখে এখন বর্তমান প্রজন্ম। কোন্ গন্তব্যে নয়া প্রজন্ম এ প্রশ্ন এখন সময়ের।

Comments