Jakaria Manik

Journalist | Writer | Poet

Jakaria Manik

"Humanity can transform this world into heaven — if it chooses to."

Translate posts to your language:

পালিয়ে আসা ৬ হাজার রোহিঙ্গা শিশু হবে দুনিয়া কাঁপানো স্পারটান!

পালিয়ে আসা ৬ হাজার রোহিঙ্গা শিশু হবে দুনিয়া কাঁপানো স্পারটান!




মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় ৬ হাজার অভিভাবকহীন এতিম রোহিঙ্গা শিশুকে স্মাট কার্ড দেয়ার মাধ্যমে তাদের থাকা খাওয়াসহ সব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানিয়েছেন।
নুরুজ্জামান আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি রোহিঙ্গা এতিম শিশুর জন্য স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে। মন্ত্রণালয়ের ১২০ জন কর্মী এ ব্যাপারে কাজ করছে। শূন্য থেকে আট থেকে ১৮ বছর বয়সী সকল এতিম শিশু-কিশোর আলাদা করে তাদের থাকা খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য উখিয়া ও টেকনাফে ২০০ একর করে মোট ৪০০ একর জমি জেলা প্রশাসন দেবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে গুগল ফরমের মাধ্যমে প্রায় ২০০০ এতিমের ডাটা বেইস তৈরি করা হয়েছে। বাবা-মা’হীন সব মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার এতিম শিশু হতে পারে। এসব এতিম শিশুর আলাদাভাবে মান সম্পন্ন খাবার দেয়া হবে। সরকার বর্তমানে ১৩২ টি শিশু-কিশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৩ হাজার এতিমদের লালন-পালন করে আসছে।
গত ২৫ আগস্ট থেকে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা বাবা-মা হারিয়ে এতিম হয়েছেন তারা আত্মীয়-স্বজন অথবা অন্যান্যের সাথে বাংলাদেশে এসে অমানবিক জীবন যাপন করছেন। তাদেরকে ইউনিসেফ এর সাথে সম্বনয় করে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা এতিম শিশুরা বাংলাদেশের জন্য আর্শিবাদ হতে পারে।


বর্তমান বিশ্ব ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। ইসরাইল, রাশিয়া, আমেরিকা, উত্তর কোরিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান শুধু অস্ত্রের জোরে নিজেরাই এখন বিশ্বমোড়ল সেজেছে। এরা কেউ কারো কথায় এখন পাত্তা দেয় না। এরা জাতিসংঘকেও প্রভাবিত করে। জাতিসংঘকে সুবিধা মতো কাজে লাগায়, এটি সবাই জানে। ব্যবসায়ী এই মোড়লদের উগ্রতার সুযোগে আধুনিক বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়া মায়ানমার মানবতা বিরোধী অপরাধের অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেছে। আমেরিকার দীর্ঘ দিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে তলে তলে এখন অপর মোড়লরা প্রায় একট্টা। এক উত্তর কোরিয়ার ঠেলাই সামলাতে পারছে না এখন আমেরিকা। বিশ্বের এমন জটিল পরিস্থিতিতে মায়ানমারের রাখাইন থেকে বিতারিত সর্বহারা রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফেরত যাবে, আবার চাল-চুলা গুছাবে? উগ্ররাষ্ট্র মায়ানমারে এমন শুভ পরিস্থিতি কে সৃষ্টি করবে এবং কবে, এ নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন অনেকের। তাই বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে আসা অভিভাবকহীন রোহিঙ্গা শিশুদের পৃথক আবাসন এবং খাবার সরবরাহ বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত ভালো পদক্ষেপ। বর্তমান নষ্ট সমাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে এই শিশুদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তার এখন থেকেই উচ্চতর সেনা প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করলে তাঁরা বাংলাদেশের জন্য আর্শিবাদই হতে পারে। এভাবেই বাংলাদেশের জন্য ‘গড গিফটেড’ ৬ হাজার রোহিঙ্গা শিশু হতে পারে দুনিয়া কাঁপানো স্পারটান। বাংলাদেশই হতে পারে তাঁদের অভিভাবক, পিতা এবং মাতা। ব্যক্তিজীবনে ঘটে যাওয়া ট্রাজেডি তাঁদের শিশু মস্তিস্কের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে; অপর সকল স্বাভাবিক শিশুর মতো টিকটিকি-তেলাপোকা দেখলে তাঁরা ভয় পায় না, ভয় পায় না এখন বাঘ-সিংহ দেখলেও, এমনকি সয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে মুখে টাট্টু আঁকা হিংস্র মানুষ দেখলেও।


এমন অস্বাভাবিক শিশুগুলো জীবনভর সকল প্রকার অপরাধ-অন্যায়কে ঘৃনা করবে এমন বিদ্যা-শিক্ষা দিলে এটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। যাদের পিছুটান নেই, যাদের কেউ পেছন থেকে ডাকবে না এমন ৬ হাজার যোদ্ধাকে সারাবিশ্বই ভয় পাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাঁদেরকে কাজে লাগানো যাবে অথবা অপর কোন রাষ্ট্র কর্তৃক হুমকীর সম্মুখিন হলে সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করবে তাঁরা। যদি তাদেরকে আধুনিক যুদ্ধবিদ্যার সকল প্রকার কলাকৌশল নির্ভূলভাবে রপ্ত করানো যায়।


মায়ের পেটে থাকতেই ওরা শুনে আসছে গুলির আওয়াজ; যোদ্ধার ঘরে, যুদ্ধের মাঠেই ওদের জন্ম। এই গ্রহের রূপসীদৃশ্য দর্শনের আগেই ওদের চোখে আঘাত হেনেছে দু’ধারে ধারানো বেয়নেট, ছুরির ঝিলিক। ওদের রক্তের শিরায় শিরায় ধ্বনিত এখন যুদ্ধের দামামা। দুনিয়ার সকল অবিচার-অনিয়ম-অনাচারের বিরুদ্ধে জয়ী হোক তাঁরা, জগতসেরা যুদ্ধা হিসেবেই গড়ে উঠুক। বাংলাদেশ যেনো এ সুযোগ হাতছাড়া না করে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় বাংলাদেশকেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে, অন্য ভাবে হলেও। রোহিঙ্গা এই শিশুরা বাংলাদেশের জন্য এক প্রকার ‘গড গিফটেড’ই বটে। উন্নত বিশ্বে ‘গড গিফটেড’ সন্তানদের যেভাবে রণবীর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সেভাবেই গড়ে তোলা হোক তাঁদের।

Comments

নিজের দেশে হাজার হাজার দরিদ্র শিশু....আর এখন ঠেকা পড়সে অন্য দেশের মানুষ গো লালন পালন করার..? এগুলা ভন্ডামি....সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় বিদেশি দাতা গোষ্ঠি থেকে কোটি কোটি টাকা ছিনিয়ে নেয়ার মাধ্যম এই রোহিঙ্গা।...তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি.....মানবতার সেবা নামে মানবতার অপমান....! কিছু সময়ের জন্য আশ্রয় দেয়া এক কথা আর স্মার্ট কার্ড দিয়া লালন পালন করা আরেক কথা....
WE ARE PEOPLE! said…
ধন্যবাদ জনাব, মন্তব্য করার জন্য। পরিকল্পনায় সকল দরিদ্র শিশুকেই উন্নত জীবন দেয়া সম্ভব। প্রয়োজন শুধু চিন্তার। কিন্তু দায়িত্বশীলদের চিন্তা-ভাবনার সুযোগ কই?