প্রবাসী দম্পতিদের পরকীয়া জীবন
যৌনতা সকল প্রাণীর জীবনচরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যৌনতা কেবল সুখের উপাদানই নয়, প্রজন্ম বিস্তারের একটি মাধ্যমও। যৌনজীবন না থাকলে সকল প্রাণী উন্মাদ-পাগল হয়ে যেত। এছাড়া, দু’টি প্রাণীর সামাজিক জীবন মজবুত করতেও যৌনতা সহায়ক। প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা সৃষ্টি-বৃদ্ধি ও বজায় রাখতে এবং বিলীনের হাত থেকে প্রাণীকুল রক্ষার লক্ষ্যেই যৌনতার সৃষ্টি। দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্মে এ নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান এ নিয়ে অনেক গবেষণা করছে।
ইসলাম ধর্ম মতে, ১৮ হাজার প্রাণীর একটি মাত্র মানুষ। মানুষ ছাড়া অপর সকল প্রাণীর বুদ্ধি আছে কেবল, বিবেক নেই। যৌনজীবন নিয়ে অপর সকল প্রাণী বিবেকহীন হলেও স্রষ্টা প্রদত্ত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় না। ভিন্নতা কেবল মানুষের বেলায়। বুদ্ধি এবং বিবেক থাকা সত্তেও মানুষ ব্যভিচারে জড়ায়। অবশ্য এর একাধিক কারনও আছে। দাম্পত্যজীবন কী এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছাড়াই সিংহভাগ মানুষ দাম্পত্যজীবনে জড়ায়। একজন স্ত্রীর পাশাপাশি-কাছাকাছি থাকাই একজন স্বামীর জন্য উত্তম। একটি প্রাণীর দৈহিক তাপ তার যৌনতার সামর্থ্যে তারতম্য ঘটায়। এসব কারনেই বেশী পরিমাণে প্রাণীজ আমিষ গ্রহণে মানুষের প্রতি ইসলাম ধর্মে নিষেধ রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে বলতে গেলে একেবারেই নিষিদ্ধ। হিন্দু ধর্মে সাধু-সন্নাসীরা প্রাণীজ আমিষ গ্রহণে শতভাগ বিরত থাকেন একই কারনে। অবাধ-অবৈধ যৌনাচারে সকল ধর্মেই নিষেধ থাকলেও এখন ধর্ম-কর্মের কোন বালাই নেই বর্তমান আধুনিক মানুষের কাছে। আধুনিক দাসখ্যাত প্রবাসীরা বিয়ে করার কয়েক মাস বা দিনের মধ্যে স্ত্রীর গর্ভে একটি মানব ভ্রুণ রেখে কয়েক বছরের জন্য প্রবাসে পাড়ি জমান, সাথে দিয়ে যান কিছু ধর্মীয় অনুশাসন। তাদের ধারণা, পেটের বাচ্চাটিকে নিয়ে স্ত্রীগণ ধর্ম-কর্মে মনোযোগী হয়ে পড়বেন। স্বামীগণ প্রবাসে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন অবাধ অনৈতিক যৌনতায়। অপর দিকে, কোন নারীর প্রথম সন্তান হওয়ার পর সে যৌনতার বিষয়টি পুরোপুরি উপলব্দি করতে থাকে। সে উপলব্দি করতে থাকে তার জৈবিক প্রয়োজনটির। যখন সে তার আশপাশের কারো কাছ থেকে যেমন- নিকট আত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে যৌনতায় সাড়া পেতে থাকে তখন সে আর স্থির থাকতে পারেন না, ধীরে ধীরে গলে যান। এভাবেই সহজে যৌনতার হাতেখড়ি হয়ে যায় একজন প্রবাসীর স্ত্রীর। অপরদিকে, বেপরোয়া যৌনজীবনে অভ্যস্ত প্রবাসী দেশে ফেরার পর স্ত্রীর সান্নিধ্যে গেলে স্ত্রী যখন নিশ্চিত হয়ে যান যে তার স্বামী যৌনতায় পরিপূর্ণ অক্ষম, তখনই বাধে বিপত্তি। দাম্পত্যজীবনে শুরু হয় কলহ। এ কলহ দু’জনকে দু’দিকে ছূঁড়ে ফেলে দেয়। জিনগত কারনে এর প্রভাব পড়ে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপরও। বিপদগামী পিতা-মাতার সন্তানও বিপদগামী হয়। এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। সন্তান জন্মদানে অক্ষম এমন প্রবাসী স্বামীর স্ত্রীগণ অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই কেবল জৈবিক পরিতৃপ্তি ছাড়াও পরকীয়া প্রেমিকের ঔরষজাত সন্তান ধারণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরবর্তী প্রজন্ম রেখে যাওয়ার তাগিদে, সন্তানের মুখ দেখার তাগিদে। এমন সন্তান তাদের পিতা-মাতা, সংসার, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য কখনোই হিতকর হতে পারে না।
যৌনতা মানব জীবনের অতিপ্রয়োজনীয় একটি অংশ। তাই দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই দায়িত্ব থাকে একে অপরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের। বিয়ে করার পর কোন স্বামীরই উচিত নয় স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘ দিনের জন্য প্রবাসে পাড়ি দেয়া। ইসলাম ধর্মে এ বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য, সুখের জন্য অর্থের প্রয়োজন আছে। তবে, তা’ যেন জীবনের বিনিময়ে না হয়। জীবনের মূল্য, জীবনের গুরুত্ব অর্থের চেয়ে অনেক বেশী। বর্তমান সময়ে প্রবাসী দম্পতিদের যৌনকলহ মাত্রা ছাড়িয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের চিরাচরিত সামাজিক শৃঙ্খল চিরদিনের জন্য ছিন্ন হয়ে যাবে, বিদায় নেবে একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের প্রেম-ভালোবাসা, মায়া-মমতা। যৌনতায় পুরুষের চেয়ে প্রকৃতিগত ভাবেই নারীর সক্ষমতা বেশী। এ জন্য একজন স্বামীকে সর্বদাই প্রস্তুত থাকতে হবে অপর কাউকে নয় নিজ স্ত্রীকে পরিতৃপ্তি দেয়ার। সময় ফুরিয়ে যায়নি, এখনো সময় আছে সতর্ক হওয়ার। একমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনই পারে মানুষকে তার আপন ঠিকানায় পৌঁছে দিতে।

Comments