Jakaria Manik

Journalist | Writer | Poet

Jakaria Manik

"Humanity can transform this world into heaven — if it chooses to."

Translate posts to your language:

করোনা ॥ প্রকৃতির আশীর্বাদ!


= দূর্বল চিত্তের কিছু মানুষ প্রলয়ের আগেই মরে যায়! যেমনটি এখন দেখা যায়, বর্তমান করোনা ভীতিতে হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দুনিয়া জুড়েই বাড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক এই হৃদরোগে মৃত্যু নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবার স্বাভাবিক মৃত্যু কামনায় অনেকের আকুতি, ‘ওহে প্রভূ এমন মৃত্যু দিও না, যে মৃত্যুতে স্বজনরাও পালিয়ে যায়; মৃত্যু পরবর্তী ক্রিয়া ব্যাহত হয়।’ এটি তাদের উক্তি, যারা মনে করেন মৃত্যুর পর ধর্মীয় ক্রিয়াদি সম্পন্ন হলেই হয়তো তিনি সরাসরি সর্গে চলে যাবেন।

আচমকা মৃত্যুর চেয়ে রোগভূগে মৃত্যু উত্তম! যেমন, অতীত পাপ ক্ষমাপ্রার্থনার সুযোগ থাকে, কারো সাথে লেনদেন থাকলে মিটমাট করে যাওয়া যায়, পরবর্তী প্রজন্মের শুভকামনায় অছিয়ত-নছিয়ত করে যাওয়া যায়। যেতে হবে ভালো; তবে, একটু পরিচ্ছন্ন হয়ে গেলে আর একটু ভালো হয় না? আর এখন? করোনা ভয়ে মরলেই যেনো বাঁচে। তবে আশার কথা- স্রষ্টায় বিশ্বাস নেই এমন মানুষ ছাড়া দুনিয়ার অপর সকল মানুষ অন্তত একবার করে হলেও আকাশপানে তাকাচ্ছেন, স্রষ্টার কাছে এখন বাড়তি একটু সময় চাচ্ছেন। এরই মধ্যে যারা চলে গেছেন তারাও হয়তো চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের প্রার্থনা মঞ্জুর হয়নি! এটিই সত্য, বলবেন অনেকে। মাটিতে মানব বসতি টিকে থাকলে শত-সহস্ত্র বছর পরও হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে; ‘একসময় অসংখ্য মানুষ-মানুষেরই পাপে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল’। ইতোমধ্যেই অভিযোগ ওঠেছে, এটি পরিকল্পিত একটি জীবানু সংক্রমন। 

আচ্ছা, পৃথিবীটাকে ভাগ করার, দখলের অধিকার কে কাকে দিলো? বর্তমান দুনিয়ার কোনো একটি রাষ্ট্রও তার নিজ জনমন উপলব্ধি করতে পারেনি। তাই হয়তো সৃষ্টিকর্তাও এখন আপন সৃষ্টির প্রার্থনায় বিমুখ হয়েছেন। মানবনীতি কেমন হবে? মানবসৃষ্টির পর থেকেই সত্য ও সুন্দর জীবনগঠনে সময়ে সময়ে আদেশ-নির্দেশ করে আসছিলেন স্রষ্টা। দুনিয়াতে এখন প্রায় সাড়ে চার হাজার ধর্ম আছে। এসবের অধিকাংশেরই আছে আবার ধর্মগ্রন্থ। কিছু ধর্ম ঐশ্বরিক, আর বেশীর ভাগই মনুষ্যসৃষ্ট। প্রায় সকল ধর্মেই মানবতা-নীতিবোধের কথা বলা আছে। নীতি বিরোধী অপরাধের দায়ে পূর্বে বহু জাতি-সম্প্রদায়কে লন্ডভন্ড করে দেয়ার বিষয়ে ঈশ্বর একাধিক বাণীতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোন্ পাপের পরিনাম কেমন হবে সে বিষয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য বারবার হুসিয়ারিও দিয়েছেন। কালের বিবর্তনে এসব তান্ডবলীলা প্রায় ভূলেই গিয়েছিল সকলে। একমাত্র মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী এখনো তাদের জীবপ্রকৃতির বংশচরিত ব্যত্যয় করেনি। এসবের পরও মানুষের প্রতি ন্যুনতম প্রেম দেখায়নি মানুষ। দীর্ঘ ক্ষোভে প্রকৃতি এখন ফুঁসে উঠেছে, মানুষের প্রতি এখন চরম প্রতিশোধ পরায়ন। ‘করো-না’ নামক এক ছোট্ট শব্ধের তরঙ্গাভিঘাতে স্বল্পতেই সকল ছন্দপতন হয়ে গেছে!

‘করো’ কী করবে? আর ‘না’ কী করবে না? এই ‘করো-না’ নিয়েই তামাম দুনিয়ার জ্ঞানী-বিজ্ঞানী-পন্ডিতবর আজ দিশেহারা। কী করলে জীবন বাঁচবে, আর কী না করলে জীবন বাঁচবে এমন সংবেদ্য ব্যাখায় দুনিয়াবী জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার চিত্র বরাবরই ফুঁটে ওঠেছে। এক অজানা সঙ্কায় বর্তমান বিশে^র প্রায় সকল মানুষই মানসিক ভারসাম্যহীণ হয়ে পড়ছে। 

সড়ক দুর্ঘটনায় বা অন্য সকল দুরারোগ্য ব্যধি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এর চেয়ে বেশী মানুষের মৃত্যু হয়ে আসছে, তাতে হইচই পড়েনি। হইচই পড়েনি, ঘোষণা দিয়ে জুলুম-দখলদারিত্বের অসম যুদ্ধ-নির্যাতন অথবা ধর্মীয় সংঘাতে কিংবা মারনাস্ত্র পরীক্ষায় মানুষের হাতে নিরন্ন লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুতে। যতোটা হইচই পড়েছে বাদবিচারহীন ধনী-গরিব, সাদা-কালোর উপর করোনা হামলায়। দুনিয়া সৃষ্টির পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এতো মানুষ মারা যায়নি, যতো মানুষ মরেছে মানুষের হাতে। করোনা আজ গোটা মানবজীবনে এক ভয়ানক অভিঘাত সৃষ্টি করে ফেলেছে। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না আসলে কী ঘটতে চলেছে? আজ অবুঝ শিশুর হাসিও সঙ্কুচিত, সকল কোলাহল মূহুর্তেই সাঙ্গ। অনাচার ছেড়ে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের দৌঁড়ে এক অজানা গন্তব্যে এখন সকলে। কিন্তু দৌঁড়ের সীমাবদ্ধতা আছে, শেষে কী হবে? উত্তরে এখনই অনেকে বলে আসছেন- আর পরছি না, স্যরি। স্যরি, বললেই কি সবশেষ? না, শেষ নয়। শুরু, আবার এক নয়া পৃথিবীর নবসূচনা। দূষণমুক্ত সবুজের জানান দিয়ে এরই মধ্যে প্রকৃতি স্বরূপে আবির্ভাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই পৃথিবী কেমন হবে? যাদের কল্পনাশক্তি প্রখর, তারা নির্জনে একটু ধ্যান করলেই হয়তো নয়াপৃথিবীর রূপায়ন করতে স্বক্ষম হবেন।

করোনা বায়ুর গতি অতিক্রমে চোখের পলকে পৃথিবীটা আচ্ছন্ন করে ফেললো, বেঁচে থাকা-বেড়ে ওঠা-বংশবৃদ্ধির জন্য ফুসফুসকেই এটি বেছে নিলো। প্রকৃতিপ্রদত্ত বিনামূল্যের অক্সিজেন গ্রহণে বড় বাধা হলো অদৃশ্য শত্রু! দুনিয়ার সকল মানুষই এখন একযোগে করনাকে দূষছেন। স্রষ্টার দরবারে আসন্ন মহামারির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমছে! তিনি এখন এসব হয়তো পাত্তাই দিচ্ছেন না। প্রশ্ন থাকে, কিন্তু কেন? তিনি কি স্রষ্টা নন? এতো নাটকীয়(!) সৃষ্টি চোখের পলকে মাটিতে মিশিয়ে দেবেন? হ্যা, দেবেন; প্রয়োজনেই দেবেন। কারন, তিনি যেমন ‘আর-রহমান‘ তেমনি ‘আল-মুনতাক্বিম‘। তাঁর দয়ায় দরদী হয়নি মানবজাতি, তাই এখন চক্রান্ত-চক্রান্ত খেলার পালা!

বিপদে করোনাকে ভয় নয়, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। হযরত ইউনুস (আঃ) এর প্রার্থনা- যখন তিনি মাছের পেটে ছিলেন- ‘তুমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তুমি পবিত্র, মহান! আমি তো সীমালংঘনকারী‘। যে কেউ এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে এ কথা দিয়ে প্রার্থনা করলে তার প্রার্থনা মহান আল্লাহ পাক কবুল করবেন। --- চলবে।

Comments