Jakaria Manik

Journalist | Writer | Poet

Jakaria Manik

"Humanity can transform this world into heaven — if it chooses to."

Translate posts to your language:

করোনা ॥ ছোট্ট একটি অনুজীব মানুষকে সভ্যতার মন্ত্র শেখাল!


করোনা ॥ ছোট্ট একটি অনুজীব মানুষকে সভ্যতার মন্ত্র শেখাল!

ছোট্ট একটি অনুজীব মানুষকে সভ্যতার মন্ত্র শেখাল! -

পৃথিবীর কোন শক্তি মানুষকে ভয় দেখাতে পারেনি, দমিয়ে রাখতে পারেনি। জ্বলন্ত বোমার মুখেও প্রতিবাদ করেছে মানুষ, নীতিতে অটল থেকেছে মানুষ। বাড়ির পাশে পরমানু বোমা চোখে দেখেও ভয়ে বুক কাপেনি মানুষের। আসমানী কিংবা জমিনী ভয়, আদেশ-নিষেধ-নীতিবাক্যও মানুষ থোরাই কেয়ার করেছে। মানুষ জন্মগতভাবেই সাহসী; এই সাহসই মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে, প্রকৃতিকে সঙ্গী করে লক্ষ-কোটি বছর পার করে পরমপরায় এই পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রকৃতি কি মানুষের সহায় হবে? মানুষকে সঙ্গ দেবে? কারন, দুনিয়া সৃষ্টির পর এই হয়তো প্রথম একযোগে নতজানু করে ফেলেছে সারাবিশে^র মানুষকে। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের আলোকে মানুষ এতোদিন জেনেছিল অতীতের কিছু ধ্বংশ-সৃষ্টি-প্রলয়ের কথা, হয়তো কেউ বিশ্বাস করেছে নয়তো অনেকেই করেনি। কারন, এগুলোকে অনেকে গল্পই মনে করেছিল। মনে করেছিল, ভয় দেখিয়ে চরিত্র পাল্টাতে চায়! মানুষ তো সাহসী জাতি, ভয় পেলে কী আর চলে? নীতিবাক্য তো দূর্বলের জন্য! আর ধর্ম তো ভীরুদের জন্য! আধুনিক বিজ্ঞান শিখিয়েছে, ‘যাহা দেখিও না নিজ নয়নে-তাহা বিশ্বাস করিও না গুরুর বচনে’। আগুনের নীলাভ শিখা আর আলোর তৈরী আবার প্রাণী হয়? এ প্রশ্নে বিজ্ঞান এখনো আশ্চর্যবোধ করে। আচ্ছা, বজ্রপাতে শুধু গরীব মানুষ মরে কেন এবং বজ্রপাতে মৃত মানুষ কারো স্পর্শ না পাওয়া পর্যন্ত স্থির থাকে কেন? মানব মনের খোঁজ পেতে বিজ্ঞানের আর কত সময় লাগতে পারে?


‘আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তবে তিনি তাদেরকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যে দিন তাদের চক্ষু হবে স্থির। ভীত-বিহ্বল চিত্তে উপরের দিকে তাকিয়ে তারা ছুটোছুটি করবে, নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে উদাস’। [সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৪২-৪৩]
‘ফিরাউনের বংশধররাও তাদের পূর্ববর্তীদের মত আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যা মনে করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের পাপের জন্য তাদেরকে শাস্তি দান করেছিলেন। বস্তুত আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর’। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১১]
অতীতে বহু জাতি ধ্বংস হয়েছিল, ধ্বংশ হয়েছিল অনেক শাসক, কেউ একক কিংবা গোষ্ঠী নির্বিশেষে। ‘আদ’ ও ‘সামূদ’ নামে আলাদা সময়ে আলাদা দুই জাতি ছিল। যারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বাড়ি-ঘরের কিছু এখনো উন্মোচিত আছে, কালের স্বাক্ষী হিসেবে। অহংকারী কারূন, ফিরাউন ও হামান এর ধ্বংশ? পাথর বর্ষণকারী ঝড়, মহাগর্জন, মাটির নিচে ধ্বসিয়ে এবং ডুবিয়ে মারার ঘটনা কি শুধুই গল্প-কল্পকাহিনী?


একটি অনুজীব! ’করোনা’। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়! বাতাসে ছড়ায়! পশু-পাখি থেকে ছড়ায়! কতো কল্পকাহিনী! কতো গুজব-আতঙ্ক! অবৈধ যৌনাচারের পৃষ্টপোষকতা করে আসছিল পৃথিবীর প্রতিটা রাষ্ট্র! বিনোদনের বিনিময়ে টাকা! অর্থনীতি সচল রাখতে! আজকে সমুদয় পৃথিবীর অর্থনীতি একযোগেই অচল! টাকার অংকে লোকসানের পরিমান কতো? এখন আর কেউ কাউকে স্পর্শও করে না ভয়ে, মৃত্যু ভয়। ধনী-গরীব, বড়-ছোট, সুন্দরী-রূপসী সকলে এককাতারে। কারো প্রতি কারো বিন্দুমাত্র আস্থা-বিশ্বাস নেই। আর যারা ছিল ভয়ংকর, বিপজ্জনক? যাদের তর্জন-গর্জনে দুনিয়া কাঁপতো? যারা বিনা-বাধায় চষে বেড়াতেন দুনিয়ার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত? যাদের শক্তি-সামর্থ প্রশ্নাতীত ছিল? তারা এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীবের তাড়নাতেই আজ নির্জিব! ধর্মনিরপেক্ষ-বস্তুবাদী-জড়বাদী-অনাধ্যাত্মবাদী-সন্দেহবাদী মানুষ চেয়ে আছে বিজ্ঞানের দিকে, আর স্রষ্টা বিশ্বাসীরা চেয়ে আছে আসমানের মালিকের দিকে। তবে, যে যেদিকেই তাকিয়ে থাকুক না কেন সারাবিশে^র সকল মানুষ যে এখন একযোগে নতজানু একটি ক্ষুদ্র অনুজীবের কাছে।
‘আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, যে জুলুম বহন করবে’। [সূরা ত্বা-হা :১১১]


মানুষ মনে করেছিল, অন্যকে কষ্ট দিয়ে সে সুখ পাবে। অন্যের সম্পদ লুণ্ঠন করে সে লাভবান হবে। অন্যের সম্মান বিনষ্ট করে সে মর্যাদাবান হবে। অথচ প্রকৃত অবস্থা এর ব্যতিক্রম। এটি প্রকৃতি বিরুদ্ধ। জুলুমের প্রতিদান জালিমকে পেতেই হবে। কেবল পরকালেই নয়, দুনিয়ায়ও মানুষকে তার অপকর্মের কুফল ভোগ করতে হয়। বিশেষত জুলুম-অত্যাচার ও অন্যের অধিকার কেড়ে নিলে দুনিয়ায়ই আজাব আসে। মানুষ এর পরও হয়তো আবার সেই অর্থের পেছনে ছুটবে। আধুনিক সব মারনাস্ত্রের উন্নতী ঘটাবে মানুষ মারার জন্য, দূর্বলের সম্পদ হরণের জন্য। আর আজ থেকে শত বা হাজার বছর পর আবার হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ‘এক সময় পৃথিবীর মানুষ একদিকে, নিজেদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অতি-উন্নত দাবী করতো এবং অপরদিকে, জুলুম-নিপীড়ন-অত্যাচার-ব্যভিচারের চরম সীমায় পৌঁছেছিল, আর সে সময় একটি ছোট্ট অনুজীব একযোগে সকল মানুষকে সভ্যতার মন্ত্র শিখিয়েছিল’। সে সময়কার  অবিশ্বাসীরা হয়তো এটিকেও কল্পকাহিনী বা গল্প বলে উড়িয়ে দেবেন। আর বিশ্বাসীরা হয়তো ভাববেন ‘সে সময়কার মানুষগুলো কতো না অসভ্য ছিল’ এবং এর থেকে শিক্ষা নেবে।

Comments