করোনা ॥ মানুষ নিজেদের অবস্থান নিয়ে কেন ভীত ও চিন্তিত?
মানুষ নিজেদের অবস্থান নিয়ে কেন ভীত ও চিন্তিত?
২ মিলিয়ন বছর আগের পূর্ব আফ্রিকায় এখনো দেখা যায়, শিশুকে বুকে চেপে রাখা উদ্বিগ্ন মা; কাঁদায় খেলে বেড়ানো উচ্ছৃঙ্খল ছেলেপেলে; সমাজের কর্তৃত্বে বিরক্ত মেজাজি যুবক; ক্লান্ত বুড়ো যারা একটু শান্তিতে থাকতে চায়; কোনো সুন্দরীর আকর্ষাণার্থী বুক চাপড়ে বেড়ানো পেশিবহুল পুরুষ; এবং জীবনের সব দেখে ফেলা বৃদ্ধ কর্ত্রী। এইসব আদি-মানবেরা ভালোবাসতো, খেলত, তৈরি করতো বন্ধুত্ব; আবার ক্ষমতা ও মর্যাদার জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। সে যুগের পৃথিবীর কারো কাছে বিন্দুমাত্র ধারণাই ছিল না যে, এই প্রাগৈতিহাসিক মানবদের উত্তরসূরিরা ভবিষ্যতে কোনো একদিন চাঁদে হেঁটে বেড়াবে, বিভাজিত করবে পরমাণু, উপলব্ধি করবে জিনের সংকেত এবং লিখবে ইতিহাসের বই। এমনকি, আদি মানবেরাও হয়ত নিজেদের নিয়ে এমন উচ্চকাংক্ষা রাখত না। যারা তাদের প্রতিবেশে কোনো জোনাকিপোকার চেয়ে খুব একটা বেশি প্রভাব রাখতে পারে নি।
যখন ইউরোপ ও এশিয়া জুড়ে বসবাসরত মানুষ বিবর্তিত হচ্ছিল, তখন কিন্তু পূর্ব আফ্রিকায় বিবর্তনের চাকা থেমে থাকে নি। মনুষ্যজাতির সূতিকাগার নতুন নতুন অনেক প্রজাতির জন্ম দিয়ে গেছে; যেমন- ÔHomo rudolfensisÕ ÔHomo
ergasterÕ এবং অবশেষে আমাদের নিজস্ব প্রজাতি, যাদেরকে আমরা খুব নির্লজ্জভাবে নাম দিয়েছি ÔHomo sapiensÕ, বা ‘জ্ঞানী মানব’।
অন্য প্রাণীদের তুলনায় মানুষের মস্তিষ্ক অস্বাভাবিকভ বড়। যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওজন ৬০ কেজি তাদের মস্তিষ্কের গড়পড়তা আয়তন ২০০ ঘন সেন্টিমিটার। আড়াই মিলিয়ন বছর আগের সবচেয়ে প্রাচীন মানব নর-নারীর মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ৬০০ ঘন সেন্টিমিটারের কাছাকাছি। আধুনিক সেপিয়েন্সের মস্তিষ্কের গড় আয়তন ১২০০ থেকে ১৪০০ ঘন সেন্টিমিটার। এই ব্যাপারটি একইসাথে মানুষের অসাধারণ সামাজিক দক্ষতা নির্মাণে এবং এর অনন্য সমস্যাগুলো তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একা মায়েরা কখনোই নিজেদের এবং নিজেদের শিশুদের জন্য যথেষ্ট খাদ্য জোগাড় করতে পারতো না। শিশু বড় করে তোলার জন্য প্রয়োজন ছিল পরিবার ও প্রতিবেশীর সহায়তা। একটি শিশুকে মানুষ করে তোলার জন্য প্রয়োজন একটি পুরো গোত্র। স্বাভাবিকভাবেই, বিবর্তন তাদের প্রতি আনুকূল্য দেখিয়েছে যারা শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলতে পেরেছিল। উপরন্তু, মানুষ যেহেতু অপূর্ণভাবে বিকশিত হয়ে জন্ম নেয়, সেহেতু তাদেরকে অন্য যে কোনো প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে শিক্ষিত ও সামাজিক করে তোলা সম্ভব। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণী জন্ম নেয় অনেকটা মাটির পোড়ার পাত্রের মতো হয়ে, যাকে বাঁকাতে চাইলে আঁচড় পড়তে পারে কিংবা ভেঙেই যেতেই পারে। মানুষ জন্ম নেয় অনেকটা গলিত গ্লাসের মতো; তাদেরকে যেমন খুশি তেমন মোচড় দেয়া যায় কিংবা প্রসারিত করা যায় এবং ইচ্ছেমত আকার দেয়া যায়। এই কারণেই আজকের শিশুকে ধর্মীয় দীক্ষা দিতে পারি কিংবা গড়ে তুলতে পারি পুঁজিবাদী কিংবা সাম্যবাদী হিসেবে; এমনকি শান্তিপ্রিয় কিংবা রণলিপ্সু হিসেবে।
সবচেয়ে প্রাচীন পাথুরে অস্ত্রগুলো সাধারণ যে কাজটিতে ব্যবহৃত হতো তা হলো- হাড় ভেঙ্গে সেখান থেকে অস্থিমজ্জা বের করে আনা। কিছু গবেষক মনে করে থাকেন যে, এটি মানুষের উদ্ভাবিত একটি মৌলিক কাজ। কাঠঠুকরে যেমন গাছের গুড়ি থেকে পোকা বের করে আনায় দক্ষ, ঠিক তেমনিভাবে আদি মানুষেরা হাড় থেকে অস্থিমজ্জা বের করে আনায় বিশিষ্টতা অর্জন করেছিল।
বড় মস্তিষ্ক এবং পাথুরে সরঞ্জামের ব্যবহার, যে কোনো কিছু শিখে নেয়ার উচ্চ ক্ষমতা এবং জটিল সামাজিক কাঠামোর মতো সুবিধাজনক গুণাবলী আমাদেরকে অন্য প্রাণীদের তুলনায় অনেক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। আর এই সকল সুবিধাবলীর কারণেই মানুষ আজ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। এই সমস্ত গুণাবলী প্রায় ২ মিলিয়ন বছর ধরে মানুষ উপভোগ করেও পুরো সময়েই মানুষ একটি দুর্বল ও প্রান্তীয় প্রজাতি হিসেবেই বেঁচে ছিল। মিলিয়ন বছর আগের আদি মানবেরা, বিরাট মস্তিষ্ক এবং তীক্ষ্ন পাথুরে অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত শিকারি প্রাণীর ভয়ে তটস্থ থাকত। তারা বড় প্রাণী খুব কমই শিকার করতে পারত; নিজেদের বাঁচিয়ে রাখত মূলত ফলমূল ও পোকামাকড় খেয়ে, মাঝে-মধ্যে ছোট প্রাণী শিকার করে এবং অন্যান্য শিকারি প্রাণীর ফেলে যাওয়া শিকারের উচ্ছিষ্ট খেয়ে।
সিংহের দল একটি জিরাফ শিকার করেছে এবং পেটপুরে খাচ্ছে। আপনি ধৈর্যের সাথে ওদের খাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রইলেন। কিন্তু ওরা চলে গেলেও আপনার সুযোগ আসবে না, কেননা তখন হায়েনা আর শিয়ালের পালা এবং আপনি বুদ্ধিমান হলে ওদের সাথে প্রতিযোগিতায় যাবার সাহস করবেন না। ওরা সিংহের ফেলে যাওয়া শিকারের বাকিটা চেটেপুটে খাবে। ওরা চলে যাবার পরই আপনার এবং আপনার গোত্রের পালা আসবে। আপনি খুব সতর্কভাবে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্টের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন কিছু অবশিষ্ট নেই, কেবল কিছু হাড় পড়ে আছে; তখন আপনি সেই হাড় ভেঙ্গে অস্থিমজ্জা বের করে খেতে শুরু করলেন।
আন্তঃপ্রজাতি প্রজনন মতবাদ মতে, আফ্রিকান অধিবাসীরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে অন্যান্য প্রজাতির মানব-সদস্যদের সঙ্গে প্রজননে লিপ্ত হয় এবং আজকের পৃথিবীর মানুষ হলো সেই আন্তঃপ্রজাতি জননের ফল। এটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ইউরোপ-এশিয়ার অধিবাসীরা খাঁটি সেপিয়েন্স নয়; তারা সেপিয়েন্স ও নিয়ান্ডারথালের সংমিশ্রণ।
নিয়ান্ডারথাল, ডেনিসোভান এবং অন্যান্য প্রজাতির মানুষেরা সেপিয়েন্সের সাথে একীভূত হতে গিয়ে এরা সবাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হোমো সেপিয়েন্স তাদেরকে বিলুপ্তির পথে চালিত করেছে। যখন একটি সেপিয়েন্সের একটি দল বলকান উপত্যকায় পৌঁছুল যেখানে নিয়ান্ডারথালরা হাজার বছর ধরে বাস করে আসছে। আগন্তুক মানবেরা হরিণ শিকার করতে শুরু করল এবং বাদাম ও ফলমূল সংগ্রহ করা আরম্ভ করল- যা এতদিন ছিল নিয়ান্ডারথালদের খাদ্যের প্রধান উৎস। নতুন প্রযুক্তি এবং উচ্চতর সামাজিক নৈপুণ্যের কারণে সেপিয়েন্সরা ছিল অধিক দক্ষ শিকারি ও সংগ্রাহক, এতে ওরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে লাগল এবং আরো ছড়িয়ে পড়ল। এতে অপেক্ষাকৃত কম করিৎকর্মা নিয়ান্ডারথালদের পক্ষে নিজেদের জন্য যথেষ্ট খাদ্য জোগানো ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে পড়ল। ক্রমশ তাদের সংখ্যা হ্রাস পেল এবং ধীরে ধীরে তাদের সবাই মারা পড়ল, সম্ভবত দু’য়েক জন ছাড়া- যারা প্রতিবেশী সেপিয়েন্সের দলে যোগদান করে বেঁচে যায়; অথবা, সম্পদের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা- সহিংসতা ও গণহত্যায় ইন্ধন যুগিয়েছিল। সহনশীলতা সেপিয়েন্সের স্বাভাবিক কিংবা স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। আজকের আধুনিক যুগেও, এক দল সেপিয়েন্সকে উত্তেজিত করে তুলে অপর এক দলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার প্রণোদনা যোগাতে কেবলমাত্র গায়ের বর্ণ, ভাষা কিংবা ধর্মের সামান্য পার্থক্যই যথেষ্ট। তাহলে প্রাচীন সেপিয়েন্সরা কি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানব প্রজাতির প্রতি সহনশীল ছিল? এটা হতে পারে যে, সেপিয়েন্সরা যখন নিয়ান্ডারথালদের মুখোমুখি হয় তখন পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জাতিগত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।
যদি হোমো সেপিয়েন্সের পাশাপাশি নিয়ান্ডারথাল কিংবা ডেনিসোভানরা শেষ পর্যন্ত বেঁচে যেত। কী ধরনের সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর আবির্ভাব পৃথিবীতে ঘটতো যদি বিভিন্ন ধরনের মানব প্রজাতি একই সঙ্গে বসবাস করতো? কার্ল মার্ক্স কি সব প্রজাতির শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিতেন?
হোমো সেপিয়েন্স পৃথিবীর একমাত্র মনুষ্য প্রজাতি হিশেবে নিজদেরকে দেখে এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, অন্য কোনো ধরনের সম্ভাবনার চিত্র কল্পনা করাই তাদের পক্ষে বেশ কঠিন কাজ। আমাদের সহোদরের অনুপস্থিতি আমাদের জন্য এটা ভাবা সহজতর করে তুলেছে যে আমরাই হলাম সৃষ্টি-জগতের প্রতীক, এবং বাকি প্রাণীজগতের সাথে আমাদের রয়েছে দুস্তর ব্যবধান। চার্লস ডারউইন যখন ইঙ্গিত দিয়ে ছিলেন যে, ‘হোমো সেপিয়েন্স’ কেবলই অন্য এক ধরনের প্রাণী মাত্র, লোকজন তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। যদি কোনোভাবে নিয়ান্ডারথালরা টিকে থাকত, তখনও কি আমরা নিজেদেরকে এই জগৎ হতে বিচ্ছিন্ন কোনো সৃষ্টি হিসেবে কল্পনা করতাম? হয়ত ঠিক এই কারণেই আমাদের পূর্বসুরিরা নিশ্চিহ্ন করেছিল নিয়ান্ডারথালদেরকে। তাদের সাথে এতোটা নৈকট্য ছিল যে উপেক্ষা করা যেত না, কিন্তু এতোটাই বৈপরীত্য ছিল যে মেনে নেওয়াও অসম্ভব।
সেপিয়েন্স দোষী হোক বা না-ই হোক, এটা ঠিক যে- যখনই তারা নতুন নতুন অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে তখনই সে অঞ্চলের আদি মানবগোষ্ঠী বিলুপ্ত হয়েছে গেছে।
সেপিয়েন্সের এমন সাফল্যের রহস্য কী ছিল? কীভাবে এতো দূরবর্তী ও ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে আমরা এতো দ্রুত আবাস গড়ে তুলেছিলাম? কেমন করে আমরা অন্যসব মানব প্রজাতিকে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দিয়েছিলাম? কেন শক্তিশালী, বুদ্ধিমান, শৈত্য-জয়ী নিয়ান্ডারথালরা আমাদের আক্রমণ ঠেকিয়ে টিকতে পারেনি? এসব নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর সম্ভাব্য উত্তর - হোমো সেপিয়েন্স পুরো পৃথিবী জয় করেছে অনন্যসাধারণ ভাষার বদৌলতে।
অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় মানুষ অকালেই জন্ম নেয়, যখন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গ সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না। একটি অশ্বশাবক জন্মের কিছুক্ষণ পরেই হাঁটাচলা করতে পারে; একটি বিড়ালছানা মাত্র কয়েক সপ্তাহ বয়সেই মা’কে ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, মনুষ্য শিশুরা থাকে একেবারে অসহায়; তাদেরকে খাদ্য, নিরাপত্তা আর শিক্ষার জন্য বড়দের উপর নির্ভর করতে হয় বছরের পর বছর।
হঠাৎ করেই খাদ্য শৃঙ্খলের মাঝামাঝি অবস্থান থেকে চূড়ায় পৌঁছে যাওয়ার প্রভাবটি ছিল বেশ সাঙ্ঘাতিক। অন্যান্য যেসব প্রাণী খাদ্য শৃঙ্খলের একেবারে চূড়ায় ছিল, যেমন- সিংহ, হাঙর; তারা ওই অবস্থান অর্জন করেছে খুবই ধীরে ধীরে, কোটি বছরের বিবর্তনের পর। তাই পারিপার্শ্বিক বাস্তুতন্ত্র সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছে, যার ফলে সিংহ কিংবা হাঙর- কেউই খুব বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেনি। সময়ের সাথে সিংহ ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে ভয়ংকর শিকারি, একই সাথে হরিণের দল বিবর্তিত হয়ে আরো দ্রুত দৌড়াতে শিখেছে, হায়েনার দল নিয়ে নিয়েছে সাহায্যকারীর ভূমিকা, আর গন্ডারেরা হয়ে উঠেছে বদমেজাজি। অন্যদিকে, মনুষ্যজাতি এতো দ্রুত খাদ্য-শৃঙ্খলের চূড়ায় উঠে পড়েছে যে, পারিপার্শ্বিক বাস্তুতন্ত্র ঠিকমতো অভিযোজিত হবার সময় পায়নি। উপরন্তু, মানুষও ঠিকমতো নিজেকে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। পৃথিবীর বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় শিকারি প্রজাতি যেন একেকটি রাজকীয় প্রাণী। লক্ষ লক্ষ বছরের আধিপত্য তাদের মাঝে এনে দিয়েছে অসম্ভব আত্মবিশ্বাস। সেদিক দিয়ে তুলনা করলে, হোমো সেপিয়েন্স যেন কোনো বেনানা রিপাবলিকের স্বৈরশাসক। কিছুকাল আগেও আমরা ছিলাম অসহায় একটি প্রাণী; সেখান থেকে হঠাৎ আজকের অবস্থানে উঠে এসে আমরা যেন নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভীত ও চিন্তিত, যা আমাদেরকে করে তুলেছে হিংস্র ও ভয়ংকর। ইতিহাসের অসংখ্য ধ্বংসলীলা, রক্তাক্ত যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে এই হড়বড়ে উল্লম্ফনের দায় আছে। ধর্ম-অধর্ম, সভ্য-অসভ্য, সাদা-কালো, উচু-মধ্য-নিম্নবিত্ত নিয়ে ‘হোমো সেপিয়েন্স’ এর মাঝে মহাবিভেদ। যদিও আজকের করোনা জানান দিচ্ছে, ‘হোমো সেপিয়েন্স’ নিয়ে কোন বিভেদ নেই; ফুসফুসের গঠনপ্রণালী এবং কার্যক্রম একই!






Comments